যৌনপল্লীতে তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

৪৪
ফরিদপুরে তরুণীকে আটকে রাখার মামলায় নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার যৌনপল্লীতে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে তানিয়া আক্তার (৪৩) নামে এক নারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় দেন।

    একই আইনের অপর একটি ধারায় তানিয়াকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে বড় সাজা হিসেবে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে।

    রায় ঘোষণার সময় আসামি তানিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    যেভাবে তরুণীকে উদ্ধার করা হয়

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ওই তরুণী ঢাকার সাভারের একটি গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ তানিয়া তাকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুরে আনেন। পরে তাকে শহরের রথখোলা এলাকার যৌনপল্লীর একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

    আটকে থাকা অবস্থায় ২৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ওই তরুণী ফরিদপুর র‍্যাব-১০ ক্যাম্পে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ওই রাতেই র‍্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করেন।

    তরুণীকে উদ্ধারের পর র‍্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার শেখ ইসরাইল আমিন বাদী হয়ে ওই দিনই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় তানিয়াকে একমাত্র আসামি করে মানবপাচার মামলা করেন।

    মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল তানিয়াকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।

    ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬ ও ১১ ধারায় আসামিকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

    গোলাম রব্বানী বলেন, এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে দেশে মানবপাচার মামলা ও মানবপাচারের প্রবণতা কমবে বলে তারা আশা করছেন।

    মানবপাচার ও আইন-আদালতসংক্রান্ত আরও খবর জানতে জাতীয় সংবাদ বিভাগে চোখ রাখুন। সর্বশেষ আপডেট পেতে Green Online Bangladesh-এর YouTube Communityতে যুক্ত থাকুন।

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।