‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’-এর খাবার বগিতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ট্রেনটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যরা হলেন সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) খোকন ইসলাম এবং তিন কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা, ফজলে রাব্বী ও আশিকুল রহমান।
ওসি জানান, কর্তব্যে অবহেলা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আবদুল আউয়াল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস-এর এই ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে পুলিশ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্যাটারিংয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের এই কর্মকর্তা।
যেভাবে অভিযোগের ঘটনা ঘটে
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার সিরাজগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটিতে ওঠেন ৪২ বছর বয়সী ওই নারী। তার কাছে মাদক রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য তাকে ট্রেনের খাবার বগিতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ ওঠে। পরে খাবার বগির কর্মচারী আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ওই নারী সান্তাহার রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওসি দুলাল উদ্দীন জানান, মামলার প্রধান অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের রেলওয়ে-সংক্রান্ত আরও খবর জানতে জাতীয় সংবাদ পড়ুন।
সর্বশেষ খবর ও আপডেট পেতে Green Online Bangladesh-এর YouTube Communityতে যুক্ত থাকুন।















