১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে করা গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিহারের স্বার্থ বিবেচনায় নেবে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝাকে লেখা এক চিঠিতে ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এ কথা জানান। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ভারত সরকারের কাছে চুক্তিটি নবায়ন না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন সঞ্জয় ঝা। তার দাবি ছিল, চুক্তির কারণে বিহার ‘নেতিবাচক প্রভাবের’ মুখে পড়েছে।
জয়শঙ্কর তার চিঠিতে জানান, চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার জন্য জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। এসব আলোচনায় বিহার সরকারের একজন অনুমোদিত প্রতিনিধিও অংশ নিয়েছেন।
তিনি জানান, ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট ও ৩০ অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ ও ৩১ মে এসব আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তি নবায়নের বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ভারত সরকার যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে চিঠির জবাবে সঞ্জয় ঝা আশা প্রকাশ করেছেন, গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সময় ভারত সরকার বিহারের স্বার্থ পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায্যভাবে বিবেচনা করবে।
সঞ্জয় ঝা বলেন, বিহার কারও করুণা চাইছে না। তাদের দাবি নিজস্ব বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আগামী ৩০ বছরের জন্য রাজ্যের প্রায় ১৩ কোটি মানুষ যেন খাবার পানি, সেচ ও শিল্পকারখানার পানির সংকটে না পড়ে, সেটিই তাদের মূল উদ্বেগ বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ পানি বণ্টন ইস্যু হিসেবে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই দেশের পরবর্তী অবস্থান এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে আরও খবর জানতে আন্তর্জাতিক সংবাদ বিভাগে চোখ রাখুন। সর্বশেষ আপডেট পেতে Green Online Bangladesh-এর YouTube Communityতে যুক্ত থাকুন।















