শিগগির নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। মেয়র জোহরান মামদানির শহরে নতুন এই নীতির আওতায় হাইস্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা গেছে, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সম্ভাব্য ক্ষতি এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে স্কুলে এআই ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা সতর্কতা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নবম শ্রেণি থেকে সাধারণত হাইস্কুল শুরু হয়।
এএফপিকে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছেন, নতুন নিয়মে নিউইয়র্ক সিটিতে শুধু হাইস্কুল পর্যায়ে এআই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থেকে প্রযুক্তিটি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তবে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার নির্দিষ্ট কিছু কাজে সীমিত থাকবে, যেমন এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে শেখা।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, মানসিক সহায়তা দেওয়ার দাবি করা বিভিন্ন এআই ‘কম্প্যানিয়ন চ্যাটবটও’ নিষিদ্ধ করা হবে। তবে পাঠ পরিকল্পনা তৈরি বা বার্তা লেখার মতো কাজে শিক্ষকদের এআই ব্যবহারের অনুমতি থাকবে।
নতুন নিয়মগুলো বুধবার ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এএফপির অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি নিউইয়র্ক সিটি হল ও নগরটির শিক্ষা বিভাগ।
ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারে সময়সীমা
নগরটির শিক্ষা বিভাগ ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ক্লাসে ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারের সময়সীমা ৪৫ মিনিট এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ৩০ মিনিটে সীমিত রাখার সুপারিশ করেছে। তবে শিক্ষার্থীরা স্কুলের বাইরে এআই ব্যবহার করলে তা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, সেই প্রশ্ন রয়েছে।
এর আগে মার্চে এআই ব্যবহারের একটি প্রাথমিক কাঠামো প্রকাশ করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের ওই গাইডেন্সে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ট্রাফিক লাইট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। লাল চিহ্নিত ব্যবহার নিষিদ্ধ, হলুদ চিহ্নিত ব্যবহারে সতর্কতা ও মানব তত্ত্বাবধান প্রয়োজন এবং সবুজ চিহ্নিত ব্যবহার অনুমোদিত ছিল।
গবেষণা, অনুসন্ধান ও সৃজনশীল প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়াকে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক অতিরিক্ত শিথিল মনে করেন। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের পর স্কুলবিষয়ক চ্যান্সেলর ক্যামার স্যামুয়েলস বলেন, কর্তৃপক্ষ ‘সঠিক বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে’ এবং ভবিষ্যতের নিয়ম তৈরিতে অভিভাবকদের মতামত বিবেচনা করা হবে।
শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, শিক্ষক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। টাস্কফোর্সটি আগামী এপ্রিলে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে, যা স্কুলে এআই ব্যবহারের বিষয়ে নিউইয়র্কের নীতিমালার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ৯ লাখের বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড়। তাই শহরটির প্রযুক্তি ব্যবহারের নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অংশেও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এআই নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত এমন নীতিগত পরিবর্তন শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ে আরও খবর পড়তে শিক্ষা সংবাদ বিভাগে চোখ রাখুন। সর্বশেষ আপডেট পেতে Green Online Bangladesh-এর YouTube Communityতে যুক্ত থাকুন।















