বিদেশে পিএইচডি করার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীর। তবে টিউশন ফি, বাসাভাড়া ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচের কারণে অনেকের জন্য এই স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড (UQ)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণাভিত্তিক বৃত্তির আওতায় দেশি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি সহায়তার পাশাপাশি জীবনযাপনের খরচ মেটাতে স্টাইপেন্ড রয়েছে।
পিএইচডি বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সালে শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩৯ হাজার ২২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত করমুক্ত জীবনযাপন ভাতা পেতে পারেন। ১ অস্ট্রেলিয়ান ডলার প্রায় ৮০ টাকা হিসেবে ধরলে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ বছরে প্রায় ৩১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
এই অর্থ থাকার খরচ ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে। তবে ভাতার পরিমাণ প্রতিবছর পর্যালোচনা করে পরিবর্তন করা হতে পারে।
কতদিন পাওয়া যাবে?
পিএইচডি শিক্ষার্থীরা সাধারণত সর্বোচ্চ সাড়ে তিন বছর পর্যন্ত এই সহায়তা পেতে পারেন। তবে এর জন্য বৃত্তির নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেই বৃত্তি নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীদের প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের এই বৃত্তি দেশি ও আন্তর্জাতিক—দুই ধরনের শিক্ষার্থীর জন্যই উন্মুক্ত। আবেদনকারীর ভালো একাডেমিক ফলাফল ও গবেষণার সম্ভাবনা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বাছাইয়ের সময় একাডেমিক পারফরম্যান্স, আগের গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রস্তাবিত গবেষণার মান এবং গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করা হয়।
এই ধরনের পিএইচডি বৃত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহীরা শিক্ষা সংক্রান্ত খবর অনুসরণ করতে পারেন।
শুধু পিএইচডি নয়
এই বৃত্তি শুধু ডক্টর অব ফিলোসফি বা পিএইচডির জন্য নয়। গবেষণাভিত্তিক মাস্টার অব ফিলোসফি (MPhil) এবং উল্লেখযোগ্য গবেষণার সঙ্গে যুক্ত কিছু পেশাগত ডক্টরেট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরাও এর আওতায় আসতে পারেন।
তবে এই অর্থকে চাকরির বেতন হিসেবে দেখা যাবে না। এটি মূলত শিক্ষার্থীদের গবেষণার সময় জীবনযাপনের খরচ চালাতে দেওয়া আর্থিক সহায়তা।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য পিএইচডি বৃত্তি বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগকে আরও সহজ করে তুলতে পারে। তাই যোগ্য শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে বৃত্তির শর্ত, যোগ্যতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
আরও শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার খবর পেতে Green Online Bangladesh-এর YouTube কমিউনিটিতে যুক্ত থাকুন।









