২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধী নন, বরং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় প্রধানমন্ত্রী হবেন—এমন প্রচারকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের জরিপে বিজয়ের নাম উঠে আসার পর তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে)-এর কয়েকজন নেতা তাকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যম ভারতে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জরিপ চালায়। সেখানে নরেন্দ্র মোদি ও রাহুল গান্ধীর পর বিজয়ের নাম উঠে আসে। তবে প্রথম দুজনের তুলনায় বিজয়ের পক্ষে ভোটের সংখ্যা ছিল অনেক কম। জরিপের পর টিভিকে নেতাদের একাংশ বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী পদে বিবেচনার দাবি তোলেন।
টিভিকে নেতা আঢভ অর্জুন ও শরৎকুমার প্রকাশ্যে বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী পদে ভাবার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারও দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জোটসঙ্গী কংগ্রেস।
কংগ্রেস নেতা ও রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী রাজেশকুমার জানিয়েছেন, ২০২৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাহুল গান্ধীকে সমর্থন না করলে বিজয়ের মন্ত্রিসভায় থাকা কংগ্রেসের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করবেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট—রাহুল গান্ধীকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করা হবে।
অন্যদিকে, বিরোধী দল ডিএমকেও বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরার প্রচারকে কটাক্ষ করেছে। ডিএমকে নেত্রী আরএস ভারতী বলেছেন, টিভিকে নেতাদের কল্পনার কোনো সীমা নেই। তাদের এই প্রচার নিয়ে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, ভবিষ্যতে হয়তো তারা বিজয়কে জাতিসংঘের প্রধান হওয়ার কথাও বলবে।
এখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, টিভিকে কি কেবল জনমত যাচাই করছে, নাকি তামিলনাড়ুর গণ্ডি পেরিয়ে বিজয়কে জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই প্রচার চালানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। ফলে বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী করার প্রচারের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং টিভিকে-এর ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক সংবাদ
আমাদের ইউটিউব কমিউনিটিতে যুক্ত থাকুন: YouTube Community















