স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে মাত্র ১৩০ টাকা সর্বনিম্ন মূল বেতন দিয়ে বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জাতীয় বেতন স্কেলের যাত্রা শুরু হয়। পাঁচ দশকের বেশি সময়ে একাধিক ধাপে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন এখন সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।
সরকারি নথিতে থাকা জাতীয় বেতন স্কেল এবং সাম্প্রতিক অনুমোদিত জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালের পর বিভিন্ন সময়ে বেতনকাঠামো সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ নবম পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয় ১৯৭৭ সালে। এরপর ১৯৮৫, ১৯৯১, ১৯৯৭, ২০০৫, ২০০৯ এবং ২০১৫ সালে নতুন বেতনকাঠামো চালু হয়। প্রতিটি ধাপেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে।
১৯৭৭ সালের দ্বিতীয় পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২২৫ টাকা হয়। ১৯৮৫ সালে তা ৫০০ টাকা এবং ১৯৯১ সালে ৯০০ টাকায় উন্নীত হয়।
১৯৯৭ সালের পঞ্চম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০০ টাকা। ২০০৫ সালে তা বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং ২০০৯ সালের সপ্তম পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সর্বনিম্ন ধাপে ৪ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৪ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮ হাজার ২৫০ টাকা হয়। একই সময়ে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এ ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেড় লাখ টাকার সীমা অতিক্রম করেছে।
নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের এই যাত্রায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।















