v
নেপালে গত সপ্তাহের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে নয় শতাধিক শ্রমিক আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে অভিযান জোরদার করেছে নেপালি সেনাবাহিনী। জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গে শ্রমিক উদ্ধার অভিযানে প্রবেশপথ সচল করতে ভারী যন্ত্রের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ব্যবহার করা হচ্ছে।
আকস্মিক বন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গমুখ কয়েক ফুট গভীর কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে বন্ধ হয়ে গেছে। সেনাবাহিনী দ্রুত প্রবেশপথ পরিষ্কার করে আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
বন্যার পর কিছু শ্রমিক বের হতে পারলেও এখনো কয়েক শ মানুষ ভেতরে আটকা পড়ে আছেন বলে জানা গেছে। সুড়ঙ্গগুলো কাদা-পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ভেতরে অক্সিজেন দ্রুত কমে আসার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা। ফলে জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গে শ্রমিক উদ্ধার অভিযান সময়ের সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নেপালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করাই এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নেপালি সেনাদের পাশাপাশি ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ দলও অভিযানে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় নতুন ভূমিধসের ঝুঁকি ও বৃষ্টির পূর্বাভাস উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে।
নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার প্রায় ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত মিলিয়ে দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৯১৯ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৪,৭৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গে শ্রমিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসাবশেষ সরানো ও সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ উন্মুক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হলেও শ্রমিকদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গে শ্রমিক উদ্ধার অভিযান এখন নেপালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধার কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক সংবাদ
আমাদের ইউটিউব কমিউনিটিতে যুক্ত থাকুন: YouTube Community















