হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের পর আইনগত পদক্ষেপের পরিবর্তে গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করার অভিযোগ উঠেছে। কিশোরী ধর্ষণ মামলা না করে প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় ৯০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হলেও ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা।
ঘটনাটি মাধবপুর উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ২০ আগস্ট বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে পাশের গ্রামের হানিফ মিয়া কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিশোরী ধর্ষণ মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
গত ২৬ আগস্ট স্থানীয় ইউপি সদস্য আবেদুর রহমান আবেদের মধ্যস্থতায় সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় মাতব্বরসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
ভুক্তভোগীর মা জানান, তারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় মামলা চালানোর সামর্থ্য নিয়ে ভয় পাচ্ছিলেন। তার দাবি, ৯০ হাজার টাকা জরিমানা বলা হলেও পরিবার পেয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। ইউপি সদস্য আবেদুর রহমান আবেদও সালিশের বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, বাকি টাকা নির্ধারিত সময়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। কিশোরী ধর্ষণ মামলা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
আইনজীবী মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ গ্রাম্য সালিশে আপস বা মীমাংসা করার সুযোগ নেই এবং এ ধরনের উদ্যোগ বেআইনি ও দণ্ডনীয় হতে পারে। মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোরী ধর্ষণ মামলাটির বিষয়ে এখন পুলিশের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের অপেক্ষা রয়েছে।
আরও সংবাদ পড়ুন: আন্তর্জাতিক সংবাদ
আমাদের ইউটিউব কমিউনিটিতে যুক্ত থাকুন: YouTube Community















