সংসদে জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলোতে আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং রাজপথে ধাপে ধাপে বড় কর্মসূচির কৌশল নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। বিরোধী দলের কৌশল হিসেবে সংসদে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার-সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিরোধীদলীয় সূত্র জানিয়েছে, চলমান সংকট নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন চাওয়া হলেও তা হয়নি। তাই চলতি অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বসহ বিভিন্নভাবে জনজীবনের সংকট সামনে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নকে কেন্দ্র করে সংসদে প্রায় ১০ মিনিট হইচই ও হট্টগোলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
জোটের নেতারা বলছেন, সরকারের কর্মকাণ্ডে দেখা দেওয়া দুর্বলতা ও জনজীবনের সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করে ধাপে ধাপে বড় আন্দোলনের দিকে যেতে চান তারা। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবির সঙ্গে দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয়ও যুক্ত করা হয়েছে। এটিই বিরোধী দলের কৌশলকে আরও বিস্তৃত করছে।
১১-দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচিতে ছয়টি প্রধান দাবি তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার-সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচির পর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। জোটের নেতারা মনে করছেন, রাজনৈতিক দাবির সঙ্গে জনজীবনের সমস্যা যুক্ত করলে কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।
জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, সংস্কার ও বিচার বাস্তবায়নের দাবির পাশাপাশি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজপথের কর্মসূচি ধাপে ধাপে আরও বড় করার পরিকল্পনাই বর্তমান বিরোধী দলের কৌশল।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক সংবাদ
আমাদের ইউটিউব কমিউনিটিতে যুক্ত থাকুন: YouTube Community















