দেবরের সঙ্গে বিয়ে, কাজীর ‘বেলকিবাজিতে’ বিপন্ন কন্যা!

১৬২
Chakaria kabinnama forgery allegation Sumi Akter devar marriage কাজীর স্বাক্ষর জাল কাবিননামা
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • স্বামী মারা যাওয়ার পর দেবরের সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারী ও তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে কথিত বিয়ের কাবিননামায় নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে কক্সবাজারের চকরিয়ার সুমি আক্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুরো ঘটনায় কাবিননামা জালিয়াতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

    মামলার নথি অনুযায়ী, সুমি আক্তার দুই সন্তানের জননী। স্বামী মারা যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে মালয়েশিয়াপ্রবাসী দেবর আজিজুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। শুরুতে তিনি রাজি না হলেও পরে পরিবারের সম্মতিতে কথিত বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর কক্সবাজার পৌরসভার কুতুবদিয়াপাড়ায় একটি কাবিননামা সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে বাদী ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর নেওয়ার পর বর মালয়েশিয়া থেকে স্বাক্ষর করে কাবিননামা পাঠাবেন বলে জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দফায় টাকা ও এক ভরি স্বর্ণালংকার নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

    প্রায় তিন মাস পর সুমিকে একটি কাবিননামা দেওয়া হয়, যাতে আজিজুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানানো হয়। পরে সন্দেহ তৈরি হলে তিনি মূল বালাম দেখতে চান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কাজী তা না দেখিয়ে চলে যান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর আরও একটি কথিত কাবিননামার নকল দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কাবিননামা জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসে।

    মামলায় কাজী মোহাম্মদ নূর এলাহীকেও আসামি করা হয়েছে। তিনি এর আগে দাবি করেছেন, তার স্বাক্ষর নকল করে তার ছেলে ওই বিয়ে পড়িয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কাবিননামায় স্বাক্ষর ও সিল কীভাবে ব্যবহার করা হলো এবং কথিত নিকাহ কোথায় ও কার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল।

    মামলার নথি অনুযায়ী, কাজী নূর এলাহী ১৬ নম্বর পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার। অন্যদিকে সুমির শ্বশুরবাড়ি চকরিয়ার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা এলাকায়। এই ভিন্ন এলাকার বিষয়টিও কাবিননামা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    সুমির আরও অভিযোগ, কাবিননামা ও টাকা-স্বর্ণের বিষয় নিয়ে সোচ্চার হওয়ার পর তাকে আসামিদের বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

    সুমি আক্তার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করেছেন। এতে আজিজুর রহমান, জিয়াউর রহমান, নূর নাহার বেগম, হাসিনা বেগম ও কাজী মোহাম্মদ নূর এলাহীকে আসামি করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪০৬, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে মামলা হওয়া মানেই আসামিরা দোষী নন; অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

    সুমির আইনজীবী অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, মামলার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিকাহ রেজিস্টারের মূল বালাম বই, কাবিননামা, স্বাক্ষর ও সিলের ফরেনসিক যাচাই এবং কথিত নিকাহর প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হলে কাবিননামা জালিয়াতির অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

    আরও খবর: আন্তর্জাতিক সংবাদ

    Read & Join us: YouTube Community

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।