বলিউডের পর্দায় এখনও দুঃসাহসিক স্টান্টে দেখা যায় অক্ষয় কুমারকে। কখনো আকাশে ঝুলছেন, কখনো দৌড়াচ্ছেন, আবার কখনো মার্শাল আর্টের কৌশলে প্রতিপক্ষকে কাবু করছেন। বয়স ষাটের দোরগোড়ায় পৌঁছালেও তাঁর শারীরিক সক্ষমতা এখনও ভক্তদের আলোচনার বিষয়।
‘খিলাড়ি’ খ্যাত এই অভিনেতার ফিটনেসের পেছনে নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি রয়েছে কঠোর খাদ্যাভ্যাস। দিনের শুরু থেকেই নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলেন তিনি। সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে ওঠা, শরীরচর্চা এবং এরপর পরিমিত খাবার— দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই নিজের জীবনযাপন ধরে রেখেছেন অক্ষয়।
অক্ষয় কুমারের ফিটনেস রুটিনে যোগাসন, বক্সিং ও মার্শাল আর্টের মতো বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম রয়েছে। শরীরচর্চা শেষ করেই তিনি বসেন সকালের নাস্তায়। আর সেই নাস্তাতেও রয়েছে বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম।
অক্ষয়ের খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম মূলনীতি হলো প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলা। চিনি ও অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবারও তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকে না। ২০২০ সাল থেকে তিনি ভিগান জীবনযাপন করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাঁর খাবারে প্রাণিজ উপাদানের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ খাবারই বেশি গুরুত্ব পায়।
দুধের ক্ষেত্রেও অক্ষয়ের পছন্দ আলাদা। সাধারণ দুধের বদলে তিনি সয়া মিল্ক, নারকেলের দুধ কিংবা আমন্ড মিল্ক পান করেন। তাঁর সকালের নাস্তাতেও এসব উদ্ভিজ্জ উপাদানের ব্যবহার দেখা যায়।
নাস্তায় অক্ষয়ের অন্যতম পছন্দ টোস্ট। তবে এতে ঘি বা মাখন ব্যবহার না করে তিনি টোস্টের সঙ্গে অ্যাভোকাডোর শাঁসের মিশ্রণ খান। সহজ এই খাবারটি তাঁর পছন্দের প্রাতরাশের একটি অংশ।
টোস্টের পাশাপাশি অক্ষয় কুমারের ফিটনেস খাদ্যতালিকায় রয়েছে চিয়াবীজের পুডিং। উদ্ভিজ্জ দুধে ভেজানো চিয়াবীজের সঙ্গে বেরি জাতীয় ফল ও বিভিন্ন ধরনের বাদাম মেশানো হয়। পুষ্টিকর এই খাবারটিও তাঁর সকালের নাস্তায় জায়গা করে নিয়েছে।
তবে প্রতিদিন একই খাবার খান না অক্ষয়। স্বাদে পরিবর্তন আনতে মাঝে মাঝে মুগডালের চিল্লা কিংবা জোয়ার দিয়ে তৈরি প্যানকেকও খান। এসব খাবারের সঙ্গে তাঁর পছন্দ পুদিনার চাটনি।
অভিনেতার খাবার তৈরির দায়িত্বে থাকা সংস্থা পড সাপ্লাই জানিয়েছে, খাবারের বিষয়ে অক্ষয় অত্যন্ত নিয়মানুবর্তী। শুধু বাড়িতে থাকলেই নয়, ভ্রমণের সময়ও তাঁর খাদ্যতালিকায় খুব একটা পরিবর্তন আসে না। প্রতিদিনের প্রাতরাশ থেকে শুরু করে দিনের অন্যান্য খাবারও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই তৈরি করা হয়।
অক্ষয়ের ফিটনেসের গল্প তাই শুধু জিমে শরীরচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কখন ঘুম থেকে উঠছেন, কী ধরনের ব্যায়াম করছেন এবং দিনের শুরুতে কী খাচ্ছেন— সবকিছুকেই তিনি গুরুত্ব দেন। সূর্য ওঠার আগে ঘুম থেকে উঠে শরীরচর্চা করা এবং এরপর উদ্ভিজ্জ ও পরিমিত খাবার দিয়ে দিন শুরু করাই তাঁর দীর্ঘদিনের জীবনযাপনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তাঁর এই রুটিন থেকে বোঝা যায়, অক্ষয় কুমারের ফিটনেস ধরে রাখার ক্ষেত্রে নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন শৃঙ্খলাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ব্যক্তিভেদে খাদ্য ও ব্যায়ামের প্রয়োজন আলাদা হতে পারে।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক সংবাদ















