ঘাড়ে ব্যথা বা শক্ত হয়ে যাওয়াকে অনেকেই বয়স বাড়ার স্বাভাবিক সমস্যা মনে করেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ঘাড়ের স্পাইন বা স্পাইনাল কর্ডে চাপ পড়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
বয়সজনিত ক্ষয়, আর্থ্রাইটিস বা ডিস্ক ফুলে যাওয়ার কারণে ঘাড়ের স্পাইনাল ক্যানাল সরু হয়ে স্পাইনাল কর্ডে চাপ পড়তে পারে। এই অবস্থাকে সার্ভিক্যাল মায়েলোপ্যাথি বলা হয়। সার্ভিক্যাল মায়েলোপ্যাথি হলে দৈনন্দিন জীবনে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেগুলো অবহেলা করা উচিত নয়।
সার্ভিক্যাল মায়েলোপ্যাথির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়ায় সমস্যা। হাত থেকে বারবার জিনিস পড়ে যাওয়া, কাপ ধরে রাখতে অসুবিধা, চাবি ব্যবহার, বোতাম লাগানো বা জুতার ফিতা বাঁধার মতো কাজে আগের তুলনায় সমস্যা হতে পারে।
হাতের লেখায় হঠাৎ পরিবর্তনও সতর্কতার লক্ষণ হতে পারে। লেখা ছোট বা এলোমেলো হয়ে যাওয়া কিংবা আঙুলের সমন্বয় কমে যাওয়ার কারণে আগের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আঙুল, হাত বা বাহুতে ঝিনঝিনি, পিন ফোটার মতো অনুভূতি কিংবা অবশভাবও সার্ভিক্যাল মায়েলোপ্যাথির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এসব উপসর্গ বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এই সমস্যা শুধু হাতেই সীমাবদ্ধ নয়। হাঁটার সময় পা ভারী লাগা, বারবার হোঁচট খাওয়া, শরীর দুলে যাওয়া বা ভারসাম্য রাখতে দেয়াল কিংবা আসবাবপত্র ধরে হাঁটার প্রয়োজন হওয়াও সার্ভিক্যাল মায়েলোপ্যাথির লক্ষণ হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে ঘাড় শক্ত হয়ে থাকা বা অস্বস্তি থাকলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কারণ সার্ভিক্যাল মায়েলোপ্যাথি থাকলেও সবসময় তীব্র ঘাড়ের ব্যথা থাকবে এমন নয়। তাই ব্যথা কম থাকলেই গুরুতর সমস্যা নেই—এমন ধারণা ঠিক নয়।
স্পাইনাল কর্ড মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে স্নায়বিক সংকেত আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন স্পাইনাল কর্ডে চাপ থাকলে স্নায়ুর কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে সেই ক্ষতি স্থায়ীও হতে পারে। তাই এ ধরনের লক্ষণ বারবার দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আরও স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য পেতে স্বাস্থ্য সংবাদ পড়ুন।















