ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহ—৩ মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে যা আছে

৮৩
সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম সম্প্রতি এই পূর্বাভাস জারি করেন।

    পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন মাসে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এ সময়ে তিন থেকে পাঁচ দফা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপপ্রবাহের পাশাপাশি ছয় থেকে ১০ দিন বজ্রঝড় হতে পারে।

    সেপ্টেম্বরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও সামগ্রিকভাবে তা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে। অক্টোবরে বৃষ্টিপাত আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। নভেম্বরেও বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

    বিভাগভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ঢাকায় ২৫০ থেকে ২৮০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৩৩০ থেকে ৩৬০, সিলেটে ৩৬০ থেকে ৩৮০, ময়মনসিংহে ৩১০ থেকে ৩৩০, রাজশাহীতে ২৬০ থেকে ২৮০, রংপুরে ৩৭০ থেকে ৩৯০, খুলনায় ২৭০ থেকে ২৯০ এবং বরিশালে ৩২০ থেকে ৩৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।

    অক্টোবরে ঢাকায় ১৪০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৬০ থেকে ২১০, চট্টগ্রামে ২০০ থেকে ২৪০, সিলেটে ১৬০ থেকে ২২০, রাজশাহীতে ১২০ থেকে ১৪০, রংপুরে ১৩০ থেকে ১৮০, খুলনায় ১২০ থেকে ১৭০ এবং বরিশালে ২১০ থেকে ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়

    সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর সময়ে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    সামগ্রিকভাবে বৃষ্টিপাত কম হলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে কোনো কোনো সময়ে ভারি বর্ষণের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বর্ষা বিদায়ের পরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি থাকতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সদ্যবিদায়ি আগস্টে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হলেও অন্য বিভাগগুলোতে বৃষ্টিপাত কম ছিল। ওই মাসে বঙ্গোপসাগরে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল।

    আগস্টে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ১৯৮ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয় ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের হাতিয়ায়। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২৭ আগস্ট রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে রেকর্ড করা হয়। পুরো আগস্টে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

    আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী তিন মাসের তাপমাত্রা ও বৃষ্টির প্রবণতা কৃষি, নদ-নদীর প্রবাহ এবং সামগ্রিক জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো দিনের আবহাওয়া জানতে নিয়মিত হালনাগাদ আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    আরও জাতীয় সংবাদ পড়ুন: জাতীয় সংবাদ

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।