ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তারেক রহমান (৩১)। দীর্ঘ ১৩ বছর নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করে নিয়মিত দেশে টাকা পাঠালেও দেশে ফিরে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। মালয়েশিয়ায় নির্মাণকাজের সময় দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
গত ১৯ আগস্ট মালয়েশিয়ায় একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজের সময় তিনতলা থেকে পড়ে মারা যান তারেক। পরে গত বুধবার রাতে বিমানযোগে তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। সেন্টমার্টিনে প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছানোর পুরো যাত্রাপথ ছিল আকাশ, সড়ক ও নৌপথে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হিমায়িত লাশ পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ নেওয়া হয় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে। সেখান থেকে ট্রলারে করে বিকেলে সেন্টমার্টিনের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় মরদেহ। সেন্টমার্টিনে প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয় শত শত মানুষ তাকে শেষবারের মতো দেখতে জড়ো হন।
স্বজনেরা জানান, তারেক দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় থাকার পর দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষার কথা বলতেন। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের প্রকৃতির প্রতি তার টান ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় দেশে ফেরা হয়নি তার। সেন্টমার্টিনে প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছানোর পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।
তারেকের স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানও তার মরদেহের সঙ্গে বিমানে বাংলাদেশে আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের সহযোগিতায় দ্রুত মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।
তারেকের মৃত্যুর পর বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মালয়েশিয়াপ্রবাসী এক বাংলাদেশি শ্রমিকের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু নির্মাণকাজে সাবঠিকাদার বা তদারককারীদের দায়িত্বে নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেন্টমার্টিনে প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছানোর এই ঘটনা প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
আরও আন্তর্জাতিক খবর পড়ুন: আন্তর্জাতিক সংবাদ
আমাদের ইউটিউব কমিউনিটিতে যুক্ত থাকুন: YouTube Community















