রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় নুসরাত জাহান নুপুর (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় কয়েক মাস পর নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। প্রথমদিকে ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ হত্যা মামলা রুজু করে নিহতের ভাই খালিদ হাসান মিলু (২৫) এবং ভাবি দিলরুবা আক্তার দিশা (২২)-কে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি নুসরাত জাহান নুপুর তার বাবার বাড়িতে রহস্যজনকভাবে মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। সে সময় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং তদন্ত চলতে থাকে।
পরবর্তীতে হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নুপুরের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না; শ্বাসরোধের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পুলিশ নতুন করে তদন্ত শুরু করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের সতন্তরা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিহতের ভাই ও ভাবিকে আটক করা হয়।
শুক্রবার সকালে নিহতের স্বামী আহাদ আলী বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নুপুরের ভাই, ভাবি, মা ও ফুফুকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নুপুর ভালোবেসে আহাদ আলীকে বিয়ে করলেও তার পরিবার সেই বিয়ে মেনে নেয়নি। একপর্যায়ে বাবার অসুস্থতার কথা বলে তাকে বাবার বাড়িতে ডেকে আনা হয় এবং স্বামীকে তালাক দিতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, নুপুর তালাক দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করা হয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সেই দাবি নাকচ করে দেয় এবং তদন্তের মোড় সম্পূর্ণ বদলে যায়।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও তিনি জানান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত এখনও চলমান এবং সব ধরনের আলামত, সাক্ষ্য ও ফরেনসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তদন্তে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।















