ডিমের কুসুমে কি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে?

০
৮৬
ডিমের কুসুম, কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • ডিম পুষ্টিকর খাবার হলেও ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরল নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো, নিয়মিত ডিমের কুসুম খেলে কি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে? বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে, বিষয়টি শুধু খাবার থেকে পাওয়া কোলেস্টেরলের পরিমাণ দিয়ে বিচার করা যায় না। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, রক্তের LDL কোলেস্টেরল এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

    আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য থেকে পাওয়া কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার ফল একেবারে একমুখী নয়। সুস্থ ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন একটি পুরো ডিম রাখা যেতে পারে বলে তাদের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যাদের রক্তে LDL কোলেস্টেরল বেশি বা ডিসলিপিডেমিয়া রয়েছে, তাদের খাদ্যাভ্যাস চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত। :contentReference[oaicite:০]{index=০}

    ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেও শরীরের প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরলের বড় অংশ যকৃত নিজেই তৈরি করে। রক্তে অতিরিক্ত LDL কোলেস্টেরল হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই শুধু ডিমের কুসুম নয়, পুরো খাদ্যতালিকায় স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। :contentReference[oaicite:১]{index=১}

    ডিমের কুসুমকে একেবারে বাদ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। এতে প্রোটিনের পাশাপাশি কোলিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে কারও উচ্চ LDL, পারিবারিক হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে কতটা ডিম খাওয়া উপযুক্ত, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।

    ডিমের ধরন নিয়েও নানা ধারণা প্রচলিত আছে। খোলা পরিবেশে পালন করা মুরগির ডিম এবং প্রচলিত পোল্ট্রি ডিমের পুষ্টিমান কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ভিন্ন হতে পারে, তবে শুধু প্রোটিনের উৎস হিসেবে এক ধরনের ডিমকে অন্যটির তুলনায় অপরিহার্যভাবে বেশি উপকারী বলা যায় না।

    কাঁচা ডিমের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। কাঁচা বা কম রান্না করা ডিমে Salmonella থাকার ঝুঁকি থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের FDA-এর তথ্য অনুযায়ী, পরিষ্কার ও অক্ষত খোসার ডিমেও এই ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। তাই ডিম নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও ভালোভাবে রান্না করা খাদ্যজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। :contentReference[oaicite:২]{index=২}

    ডিমের কুসুম খেলে গ্যাস, জন্ডিস বা কিডনির ক্ষতি হবেই—এ ধরনের সাধারণ দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে কোনো খাবার খাওয়ার পর বারবার শারীরিক সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    সুতরাং, ডিমের কুসুমকে এককভাবে হৃদ্‌রোগের কারণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। খাদ্যাভ্যাসের সামগ্রিক ধরন, রক্তের কোলেস্টেরল, স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি—সবকিছু বিবেচনা করেই খাদ্যতালিকা ঠিক করা উচিত।

    স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে আরও তথ্য জানতে GreenOnlineBD-এর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো অনুসরণ করুন।

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।