বিএলআরআইয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ১৫ দিনে প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি

০
১১২
বিএলআরআইয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে জাতীয় কৃষক শক্তির মানববন্ধন
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত এবং তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাতীয় কৃষক শক্তি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বিএলআরআইয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা বিএলআরআইয়ে অনিয়মের অভিযোগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান। মেহেদী হাসান মুন্নার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জাতীয় কৃষক শক্তির সংগঠক আলম হাসান, ঢাকা জেলা উত্তর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলকারনাইন এবং জাতীয় যুব শক্তি ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন শুভ।

    প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্য সচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান। তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালে গবেষণার জন্য রাখা ১৩টি মোরগ চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এর আগে ২০২৩ সালেও একই শেড থেকে ৩৮টি মোরগ চুরির অভিযোগ সামনে এসেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বক্তারা বিএলআরআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ড. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাবেক পরিচালক (গবেষণা) ড. নাসরিন সুলতানাকে ঘিরে নিয়োগ, প্রকল্প ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান। নাসরিন সুলতানার সাময়িক বরখাস্ত ও পরবর্তী পুনর্বহাল নিয়েও তদন্তের দাবি করা হয়।

    মানববন্ধনে বিএলআরআইয়ে অনিয়মের অভিযোগ যাচাইয়ে বিশেষ হ্যাচিং ডিম বিতরণের আবেদন, বরাদ্দ ও বিতরণসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের দাবিও জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, অনলাইন আবেদনের ক্রমানুসারে ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও পছন্দের ব্যক্তিদের একাধিকবার ডিম দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    এ ছাড়া ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদের দায়িত্ব ও বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও ওঠা অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়। প্রাণিস্বাস্থ্য গবেষণা খাতে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প, GHSA প্রকল্প, উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজস্ব বাজেটের আওতায় কেনা রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি ও ল্যাবরেটরি সামগ্রীর হিসাব এবং ইনভেন্টরি যাচাইয়ের আহ্বান জানান বক্তারা।

    বক্তারা ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জাত উন্নয়ন গবেষণা প্রকল্প এবং উটপাখি প্রকল্পের বরাদ্দ, ব্যয়, প্রাণী আমদানি, মৃত্যু, বর্তমান সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি প্রকাশেরও দাবি জানান। উটপাখির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করে সরকারি রেজিস্টার, ক্রয় নথি, ভেটেরিনারি রেকর্ড, পোস্টমর্টেম ও ইনভেন্টরি যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়।

    মানববন্ধন থেকে বিএলআরআইয়ের চলমান ও সমাপ্ত বড় প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ, ব্যয় ও অর্জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য, অডিট আপত্তির সংখ্যা ও আর্থিক মূল্য, প্রকল্পের আওতায় কেনা গাড়ি ও সরঞ্জামের বর্তমান অবস্থান এবং প্রকল্পে মারা যাওয়া বা নিখোঁজ পশু-পাখির সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

    গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে জাতীয় কৃষক শক্তি বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

    বিএলআরআইয়ে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও বক্তব্যই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সরকারি প্রকল্পের নথি, হিসাব ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

    কৃষি ও গবেষণাবিষয়ক আরও খবর পড়ুন শিক্ষা সংবাদ ট্যাগে এবং GreenOnlineBD YouTube Community-তে।

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।