প্রথম মেসেজ রবিনের, ‘১৭’র আবরার ফাহাদ, মেরে বের করে দিবি দ্রুত’

০
৯১
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় রবিনের ভূমিকা নিয়ে ভাই আবরার ফাইয়াজের ফেসবুক পোস্ট
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় রবিনের ভূমিকা নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তার ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। মামলার আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি হত্যার আগে আবরারকে সন্দেহ করা, মারধরের নির্দেশ দেওয়া এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিষয়টিকে ‘নাটক’ বলার মতো অভিযোগ তুলে ধরেন।

    শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেওয়া পোস্টে আবরার ফাইয়াজ রবিনের নিজের জবানবন্দি এবং একই মামলার আসামি ইফতি মোশাররফ সকালের জবানবন্দির বিভিন্ন বক্তব্য উল্লেখ করেন। পোস্টে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর শেরে বাংলা হলের ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ১৫ ও ১৬ ব্যাচের মেসেঞ্জার গ্রুপে রবিন আবরারকে যাচাই করার কথা লেখেন। শিবির প্রমাণিত হলে তাকে মেরে হল থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশও দেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

    আবরার ফাইয়াজের পোস্ট অনুযায়ী, ওই গ্রুপে আবরারের ফেসবুক মন্তব্যের স্ক্রিনশটও শেয়ার করেছিলেন রবিন। পরে ৬ অক্টোবর রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে গিয়ে আবরারের মোবাইলে থাকা ভিডিও দেখেন তিনি। পোস্টে রবিনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে বলা হয়, এরপর আবরারকে চশমা খুলতে বলে তার গালে কয়েকটি চড় মারেন রবিন। পরে মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন ও অনিক সরকারও আবরারকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    আসামি ইফতি মোশাররফ সকালের জবানবন্দির বরাত দিয়ে আবরারের ভাই লেখেন, আবরার শিবির করেন না বলার পরও রবিন তাকে শিবির আখ্যা দিয়ে মারধরের নির্দেশ দেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে। বুয়েটে আর কারা শিবির করেন, তাদের নাম আবরারের কাছ থেকে বের করার নির্দেশ দেওয়ার কথাও পোস্টে তুলে ধরা হয়।

    পোস্টে আরও বলা হয়, রাতের দিকে রবিন আবার ২০১১ নম্বর কক্ষে গিয়ে আবরারকে মারধর হতে দেখেন। রবিনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে আবরার ফাইয়াজ লেখেন, অনিক সরকার ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারের পিঠ, পাঁজর ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। একই সময় ইফতি মোশাররফ সকাল ও মুজাহিদুর রহমানও আবরারকে মারধর করছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

    আবরার ফাইয়াজের পোস্ট অনুযায়ী, রবিন পরে অন্য শিক্ষার্থীদের ডেকে আবরারের কাছ থেকে বুয়েটে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত অন্য শিক্ষার্থীদের নাম বের করার নির্দেশ দেন। রাসেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর আবরারকে বলা হয়, তার জন্য মুন্না ভাই ২০০ কিলোমিটার দূর থেকে আসছেন—এমন বক্তব্যও পোস্টে তুলে ধরা হয়েছে।

    আবরারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পরও রবিন তাকে ‘নাটক’ করছেন বলে মন্তব্য করেছিলেন—রবিন ও সকালের জবানবন্দির বরাত দিয়ে এমন দাবি করেছেন আবরার ফাইয়াজ। পরে আবরারকে অন্য কক্ষে নেওয়া হয়। পোস্টে বলা হয়, রবিন মেহেদী হাসান রাসেলের কক্ষে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে কথা বলেন এবং রাসেল আবরারকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।

    পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে নিরাপত্তাকর্মীকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে এবং প্রভোস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। অন্যদিকে, সকালের জবানবন্দির বরাত দিয়ে আবরার ফাইয়াজ লেখেন, আবরারের অবস্থা গুরুতর হওয়ার পরও তাকে ঠিক আছেন বলে দাবি করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক এসে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার এসব বিবরণ আবরার ফাইয়াজের ফেসবুক পোস্টে আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টে উল্লিখিত বক্তব্যগুলো সংশ্লিষ্ট জবানবন্দির বর্ণনা হিসেবে উপস্থাপিত; সেগুলো এখানে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

    আরও শিক্ষা ও সমসাময়িক খবর পড়ুন: শিক্ষা সংবাদ। আন্তর্জাতিক খবরের জন্য দেখুন: আন্তর্জাতিক সংবাদ।

    ভিডিও ও আপডেট পেতে যুক্ত থাকুন: Green Online BD YouTube Community।

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।