৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে মেধাক্রমে পঞ্চম হয়েও গেজেটে নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নূরনবী শেখ। তার দাবি, গোপালগঞ্জের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; বরং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। এতে ৬১১ জনকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত ফলে সাময়িকভাবে সুপারিশ পাওয়া ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম গেজেটে স্থান পায়নি। তাদের বাদ পড়ার কারণ গেজেটে উল্লেখ করা হয়নি।
৪৯তম বিসিএস গেজেটে নেই নূরনবীর নাম
বাদ পড়া ৫৭ জনের একজন নূরনবী শেখ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিজয় ৭১ হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ের প্রভাষক পদে তিনি সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং মেধাক্রমে পঞ্চম ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নূরনবী বলেন, গোপালগঞ্জের বাড়ি হলেও তিনি কলেজ, হল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন না। তার পরিবারও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয় এবং তার নামে কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
নূরনবীর দাবি, তিনি ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন এবং ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনে সামনের সারির একজন ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে ঢাকার নিরাপত্তা রক্ষায় রাতভর পাহারায় অংশ নিয়েছিলেন।
গেজেটে নাম না থাকায় প্রশ্ন নূরনবীর
নিজের বাদ পড়ার বিষয়ে নূরনবী বলেন, গোপালগঞ্জের মানুষ হয়েও তিনি জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন। এরপরও ৪৯তম বিসিএস গেজেট-এ তার নাম না আসায় বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারছেন না বলে জানান।
এর আগে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে ৬১১ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
নূরনবীসহ বাদ পড়া ৫৭ জনের গেজেটে নাম না থাকার নির্দিষ্ট কারণ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়নি। পিএসসি জানিয়েছে, কমিশন সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যাচাই-বাছাই শেষে নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
গোপালগঞ্জের কয়েকজন প্রার্থী বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, তাদের বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা পরিচয় বা জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ কোনো কারণ ছিল—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। :contentReference[oaicite:০]{index=০}
আরও চাকরি ও শিক্ষা সংক্রান্ত খবর পড়ুন GreenOnline-এ এবং সর্বশেষ আপডেট পেতে YouTube Community দেখুন।










