এক বছর আগে শিবির থেকে বহিষ্কার হন আম্মার, প্রকাশ্যে তিন চিঠি

০
১০৯
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে ২০২৫ সালে শিবির থেকে বহিষ্কারের চিঠি প্রকাশ
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে ২০২৫ সালে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাথী পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে সংগঠনটির তিনটি চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাবি শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সীর একটি ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে প্রতিবেদকের হাতে শিবিরের বিভিন্ন সময়ের তিনটি চিঠি এসেছে। চিঠিগুলোতে সালাহউদ্দিন আম্মারকে শিবির থেকে বহিষ্কার ও তার সাংগঠনিক পদ বাতিলের বিষয়ে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রথম চিঠিটি ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির। তৎকালীন রাবি শিবিরের সভাপতি ও রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, বিষয়গুলো ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আলোচনা করে তার সাথী পদ মূলতবী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আরেক চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বাইরে কর্মকাণ্ড এবং বারবার সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরও পরিবর্তন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আম্মারের সাথী পদ বাতিল করেছেন।

    ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই রাবি শিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত তৃতীয় চিঠিতেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। সেখানে সালাহউদ্দিন আম্মারকে শিবির থেকে বহিষ্কার করার পেছনে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে নৈতিক আচরণ, সংগঠনের নিয়ম ভঙ্গ, আর্থিক লেনদেন ও সংগঠনের নীতির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

    তৃতীয় চিঠিতে বলা হয়, উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় তার সাথী পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই চিঠিতে তার পরবর্তী কর্মকাণ্ড নিয়ে সংগঠনের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, আম্মারের অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেখাতে এবং কেবল রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে দাপ্তরিক সম্পর্ক রাখতে বলা হয়েছে।

    রাবি শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সী তার ফেসবুক পোস্টে আম্মারের সঙ্গে শিবির-জামায়াতের বর্তমান যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে পোস্টে থাকা বক্তব্যগুলো তার ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    চিঠির সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাবি শিবিরের বর্তমান সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান চিঠিগুলো সত্য বলে জানান। তিনি বলেন, ২০২৫ সালেই আম্মারকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    সাম্প্রতিক সময়ে আম্মারকে ঘিরে রাবি ক্যাম্পাসে সংগঠনটির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। আগস্টে রাবি শিবির সংবাদ সম্মেলন করে আম্মারের কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন নেবে না বলে জানিয়েছিল। :contentReference[oaicite:০]{index=০}

    তবে চিঠিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো স্বাধীন তদন্তের ফল এই প্রতিবেদনে উপস্থাপিত হয়নি। তাই অভিযোগ ও সংগঠনের বক্তব্যকে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    ক্যাম্পাস ও শিক্ষা বিষয়ক আরও খবর পড়ুন শিক্ষা সংবাদ ট্যাগে এবং GreenOnlineBD YouTube Community-তে।

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।