ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের জাওফ প্রদেশের হাজম শহরের একটি কারাগারে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবারের হামলায় এক শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন বলে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
হুতিদের অভিযোগ, হামলাটি হাজমের কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে চালানো হয়। আহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। হুতি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি জানান, হামলার পর নিহত ও আহতদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হুতি পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরার প্রতিবেদনে কারাগারের ওয়ার্ডেনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হামলায় ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৩৫ জন বন্দী আটকা পড়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। স্বামীকে দেখতে কারাগারে যাওয়া এক নারীও সেখানে আটকা পড়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
আল-মাসিরা হামলার পরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ভবনের ধসে পড়া অংশ ও ধ্বংসস্তূপ দেখা যায়। উদ্ধারকারী দলের সদস্য বলে মনে হওয়া কয়েকজনকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের খোঁজ করতে দেখা গেছে।
হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবকে ইয়েমেনের কারাগারে বিমান হামলা চালানোর জন্য দায়ী করেছেন। তিনি হামলাটিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। তবে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইয়াহিয়া সারি আরও দাবি করেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হুতি বাহিনী সৌদি আরবের চারটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এসব দাবির বিষয়েও সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাজমের ইয়েমেনের কারাগারে বিমান হামলা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী দেশের বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান চালাচ্ছে। জাওফ, বাইদা, দালে ও মারিবসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ চলছে।
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করে।
এর আগেও ইয়েমেনে কারাগার ও বন্দিশিবির হামলার শিকার হয়েছে। ২০২২ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সাদা প্রদেশের একটি বন্দিশিবিরে হামলা চালায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালে দামার প্রদেশের একটি বন্দিশিবিরেও হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দেশটির অর্থনীতি ও জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে লাখো মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে পড়েছেন। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের লড়াই কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আবারও সংঘর্ষ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে হাজমের কারাগারে ইয়েমেনের কারাগারে বিমান হামলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একাধিক ফ্রন্টে সংঘাত বাড়তে থাকায় ইয়েমেনের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক সংবাদ ও সর্বশেষ আপডেটের জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদ বিভাগ এবং GreenOnlineBD YouTube Community অনুসরণ করুন।















