দুর্নীতির অভিযোগে সেপ ব্ল্যাটারের বিদায়ের পর ২০১৬ সালে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিফার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এক দশক পর সেই প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বিতর্কও সমানভাবে তার পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।
ফিফার আর্থিক সংকট কাটিয়ে তুলতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধি, নতুন প্রতিযোগিতা চালু এবং বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেন। সংস্থাটি বর্তমানে রেকর্ড আয় করার পথে রয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই সাফল্যের পেছনে বিতর্কিত অনেক সিদ্ধান্তও রয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপকে ৪৮ দলের টুর্নামেন্টে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ইনফান্তিনোর অন্যতম বড় পদক্ষেপ। এছাড়া ক্লাব বিশ্বকাপের নতুন সংস্করণ চালু করে তিনি ফিফার বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। যদিও খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ এবং ফুটবল ক্যালেন্ডার নিয়ে ইউরোপীয় ক্লাব ও খেলোয়াড় সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো-কে।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ছিল তার নেতৃত্বের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়। শ্রমিক অধিকার, মানবাধিকার এবং বৈষম্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে কাতারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তার বিভিন্ন মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং ফুটবল প্রশাসনের বাইরে রাজনৈতিক আলোচনারও কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
পরবর্তীতে ২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিন মহাদেশজুড়ে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন এবং ২০৩৪ সালের আসর সৌদি আরবকে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে উয়েফাসহ বিভিন্ন ফুটবল সংস্থা অসন্তোষ প্রকাশ করে। অনেকেই মনে করেন, এসব সিদ্ধান্ত ফিফার সুশাসনের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো-র ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও সমালোচনার জন্ম দেয়। ট্রাম্পের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, কূটনৈতিক সফরে উপস্থিতি এবং ফিফা কংগ্রেসে বিলম্বে যোগ দেওয়ার ঘটনায় উয়েফা প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করে।
ক্লাব বিশ্বকাপ, টিকিটের উচ্চমূল্য, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং ফিফার প্রতিযোগিতার শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব নিয়েও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। ব্যাপক বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।
সমালোচনা থাকলেও সমর্থকদের মতে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ছোট ও উন্নয়নশীল ফুটবল দেশগুলোর জন্য উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধি করেছেন এবং ফিফার আর্থিক অবস্থাকে আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী করেছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, তার নেতৃত্বে ফিফা আরও বেশি বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে চলে গেছে।
১০ বছর পূর্ণ করে তিনি এখন নতুন মেয়াদের দিকে এগোচ্ছেন। ফিফার সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ফলে আগামী কয়েক বছরে বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো-র ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
আন্তর্জাতিক সংবাদ
আমাদের YouTube Community:
https://www.youtube.com/@GreenOnlineBD/posts















