চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা বেগম স্বপ্না এবং চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির সংগঠক মো. দিদারুল হক বাপ্পি আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা গেছে, টংকাবতী খালের ওপর নির্মিত ৬৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজটি বৃহস্পতিবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যের উদ্বোধন করার কথা ছিল। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বুধবার ব্রিজটি উদ্বোধন করেন। এ কারণে বৃহস্পতিবার সেখানে না গিয়ে শামীম আরা বেগম স্বপ্না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান।
দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বের হওয়ার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেখানে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান ফটকের সামনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সাতকানিয়ায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদেরও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। দৈনিক কালবেলার সাতকানিয়া প্রতিনিধি মো. মিনহাজ উদ্দিনের মোবাইল ফোন নিয়ে ভাঙচুরের পর প্রায় ২০ মিনিট পর ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। স্থানীয় অনলাইন সাংবাদিক মাকছুদুল ইসলাম চৌধুরীও ভিডিও ধারণের সময় মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে মারধরের অভিযোগ করেছেন।
মিনহাজ উদ্দিনের অভিযোগ, সাতকানিয়ায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ চলাকালে তিনি ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় জামায়াতের কয়েকজন তার মোবাইল ফোন নিয়ে তাকে হেনস্তা করেন এবং পরে ফোনটি ভাঙা অবস্থায় ফেরত দেন।
অন্যদিকে মাকছুদুল ইসলাম চৌধুরীর অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ভিডিও করার সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে মারধর করা হয়। পরে ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াতের লোকজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালিয়ে তাদের এক কর্মীকে আহত করেছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং সাংগঠনিক বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সাতকানিয়া পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির হামিদ উদ্দিন আজাদ বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তিনি জানতে পারেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতি হয়েছে। সাংবাদিকের মোবাইল ফোন নেওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে জানান, সংসদ সদস্যের হাসপাতাল পরিদর্শনের বিষয়ে তাকে আগে কোনো অফিসিয়াল চিঠি দেওয়া হয়নি। পরে ইউএনওর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। হাসপাতালের বাইরে উত্তেজনার খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
এলজিইডির কর্মকর্তা সবুজ কুমার দে জানান, ব্রিজটি বৃহস্পতিবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য উদ্বোধন করবেন বলে তাদের জানানো হয়েছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজ উদ্যোগে নামফলক তৈরি করে বুধবার ব্রিজটি উদ্বোধন করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, হাসপাতালে কিছুটা হট্টগোল হলেও তার কার্যালয়ে কোনো উত্তেজনা হয়নি। সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হেনস্তার বিষয়টি সার্কেল অফিসারকে জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা হট্টগোল হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারির কারণে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতকানিয়ায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ নিয়ে প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে।
আরও বাংলাদেশ ও রাজনৈতিক সংবাদ পড়ুন সর্বশেষ সংবাদ বিভাগে। ভিডিও আপডেট পেতে যুক্ত থাকুন GreenOnlineBD YouTube Community-এর সঙ্গে।















