হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের জেরে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ রুটসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটে জেলার বিভিন্ন যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
হবিগঞ্জ পরিবহন ধর্মঘটের কারণ
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে দুই জেলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময়ে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে আবারও বাস আটকের ঘটনা ঘটছে।
তার দাবি, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে আগের মতো বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো স্টপেজ দিতে পারবে না। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছুদিন বাস চলাচল করছিল।
এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে রাখেন বলে দাবি করেন আবু মঈন চৌধুরী। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হয়। বৈঠকের পর আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনটি বাস আটকের অভিযোগ
আবু মঈন চৌধুরী বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল শুরু হলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখে। তার দাবি, বাসগুলো এখনো ছাড়া হয়নি। এ কারণেই বাধ্য হয়ে হবিগঞ্জ পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জের বাসগুলো যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেটিই তাদের দাবি। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পরিবহন ধর্মঘট চলবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার মৌলভীবাজারের নেতার
তবে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল। এর মধ্যে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং একজন আইসিইউতে আছেন বলে তিনি জানান।
আব্দুর রহিম রিপন আরও বলেন, শ্রীমঙ্গলের শ্রমিকরাই বাসগুলো আটকে রেখেছেন এবং এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। সমস্যার সমাধানে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।
ধর্মঘটের কারণে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। দুই পক্ষের বিরোধ দ্রুত সমাধান করে হবিগঞ্জ পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক করার প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা।
জাতীয় সংবাদ | YouTube Community















