জাতিসংঘে ট্রাম্পের ভাষণে দাবির তথ্য যাচাই

০
৮১
জাতিসংঘে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ, যুদ্ধ, জলবায়ু, বিনিয়োগ ও অপরাধের দাবির তথ্য যাচাই
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রায় ৩৭ মিনিটের ভাষণ দেন। ভাষণে যুদ্ধ, ইরান, গাজা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও অপরাধ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি একাধিক দাবি করেন। হোয়াইট হাউসও ভাষণের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। :contentReference[oaicite:০]{index=০}

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েকটি দাবি যাচাই করেছে। এর মধ্যে তার ‘আটটি যুদ্ধ’ সমাধানের দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, কসোভো-সার্বিয়া, রুয়ান্ডা-ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ভারত-পাকিস্তান, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান ও গাজার সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। তবে এসব ঘটনাকে একইভাবে যুদ্ধের অবসান হিসেবে বর্ণনা করা যায় কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

    বিশেষ করে মিসর-ইথিওপিয়া প্রসঙ্গটি ছিল বাঁধ প্রকল্পকে ঘিরে কূটনৈতিক বিরোধ, সরাসরি যুদ্ধ নয়। কসোভো-সার্বিয়া সম্পর্কেও ট্রাম্প যে সমস্যার কথা বলেছেন, সেটিকে বর্তমান সময়ে একটি যুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। রুয়ান্ডা ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর ক্ষেত্রেও শান্তি উদ্যোগ থাকলেও সংঘাত পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    গাজা নিয়েও ট্রাম্প তার প্রশাসনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তবে একই সময়ে গাজা নিয়ে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতিসংঘে ট্রাম্পের গাজা শান্তি-সংক্রান্ত দাবির সমালোচনা করেছেন। :contentReference[oaicite:১]{index=১}

    ট্রাম্পের ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও কয়েকটি দাবি ছিল। তিনি অতীতে জলবায়ু নিয়ে ‘১২ বছরের মধ্যে সবাই মারা যাবে’ ধরনের সতর্কতার কথা উল্লেখ করেন। তবে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মূল বক্তব্য ছিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তি নয়; বরং বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে দ্রুত ও বড় ধরনের নিঃসরণ কমানো প্রয়োজন।

    বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প জাতিসংঘে বিশ্বজুড়ে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করার দাবি করেন। তবে হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্যে নতুন মার্কিন বিনিয়োগের পরিমাণ ১১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দুই সংখ্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। :contentReference[oaicite:২]{index=২}

    গোলাবারুদের মজুদ নিয়েও ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে এবং উৎপাদন অভূতপূর্ব মাত্রায় চলছে। তবে একই সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে কিছু ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ইন্টারসেপ্টরের মজুদে চাপের কথা উঠে এসেছে। CNN-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে মিসাইল প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। :contentReference[oaicite:৩]{index=৩}

    ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প জাতিসংঘে চলমান যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং চুক্তি না হলে ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে তার বক্তব্য ও ইরান নিয়ে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। :contentReference[oaicite:৪]{index=৪}

    ওয়াশিংটন ডিসির অপরাধ পরিস্থিতি নিয়েও ট্রাম্প ৮৭ শতাংশ কমার দাবি করেন। তবে এই সংখ্যাটি নিয়ে স্বাধীন তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে সহিংস অপরাধ কমার দাবি করে আসছে। :contentReference[oaicite:৫]{index=৫}

    সব মিলিয়ে, জাতিসংঘে ট্রাম্পের ভাষণে পররাষ্ট্রনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্জন নিয়ে একাধিক বড় দাবি উঠে এসেছে। এসব দাবির কিছু হোয়াইট হাউসের নিজস্ব বর্ণনার সঙ্গে মেলে, আবার কয়েকটির ক্ষেত্রে স্বাধীন তথ্য ও সংবাদমাধ্যমের যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য পাওয়া যায়।

    আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক সংবাদ | YouTube Community

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।