ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও নিজস্ব রাজস্ব বাড়াতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। মেট্রোরেলের রাজস্ব বাড়াতে স্টেশনগুলোতে ফুড ভেন্ডিং মেশিন, রিটেইল শপ এবং ট্রেনের ভেতর-বাইরে বিজ্ঞাপনের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডিএমটিসিএলের দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের বিভিন্ন স্টেশনের নন-পেইড জোনে ফুড ভেন্ডিং মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৬টি স্টেশনের কোনটিতে কতটি মেশিন বসবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মেট্রোরেলের রাজস্ব বৃদ্ধির এই পরিকল্পনা নিয়ে ডিএমটিসিএলের বোর্ড সভাতেও আপত্তি উঠেছে।
দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, আগের বছরের ভাড়ার ওপর প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়ানোর কথা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এই শর্ত ছোট উদ্যোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ভেন্ডিং মেশিনে খাদ্যের মান, দাম, বিদ্যুৎ বিল, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিয়েও স্পষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে।
এ ছাড়া আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার স্টেশন বাদ দিয়ে ১৪টি স্টেশনে ৩১টি রিটেইল শপ ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি স্টেশন বাদ দেওয়ার কারণ এবং দোকানগুলোর আকার, ধরন ও ভিত্তিমূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
বিজ্ঞাপন খাতেও মেট্রোরেলের রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২৪ সেট ট্রেনের প্রতিটিতে ৬০টি আলোকিত মনিটর ও প্রায় ২৮০টি আলোহীন বিজ্ঞাপনের স্থান নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ট্রেনের ভেতরের বিজ্ঞাপন যাত্রী চলাচলে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞাপন দরপত্রে অংশ নিতে প্রতিষ্ঠানের আগের বছরের কমপক্ষে ১ কোটি টাকা টার্নওভার এবং বিজ্ঞাপন খাতে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত রাখা হয়েছে। এক বছরের ভাড়া এককালীন অগ্রিম দেওয়ার শর্তও রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মেট্রোরেলের রাজস্ব কতটা বাড়বে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম যাত্রীসেবায় কী প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন: শিক্ষা সংবাদ
Read & Join us: YouTube Community















