গেজেট সংশোধন: ১২৭ জন মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পরিবর্তন করে ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গেজেট সংশোধন করা হয়েছে। চলতি সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে দুটি সংশোধিত অধ্যাদেশ উত্থাপন করবেন মন্ত্রী।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ১০২তম সভা পর্যন্ত বড় ধরনের গেজেট সংশোধন
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বড় ধরনের গেজেট সংশোধন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ৯১তম থেকে ১০২তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২৭ জন ব্যক্তির নাম ‘মুক্তিযোদ্ধা’ থেকে পরিবর্তন করে ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে মোট ২৭৫ জনের নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়, যার মধ্যে শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসেই ১৯১ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই দ্রুত গেজেট সংশোধন ও নতুন অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর আলোকে নতুন করে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে ৪০ জনের নাম গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ জন নতুন এবং বাকি ৯ জন পূর্বের গেজেট বাতিল করে সহযোগী হিসেবে স্থান পেয়েছেন। এছাড়া ১০২তম সভায় লাল মুক্তিবার্তা থেকে ৭৫ জনের গেজেট বাতিলের মাধ্যমে বড় গেজেট সংশোধন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী জানিয়েছেন, সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা করার বিষয়ে দুটি সংশোধিত অধ্যাদেশ শীঘ্রই সংসদে উত্থাপন করবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
বিগত ১৬ বছরের গেজেট ও বাতিলের পরিসংখ্যান
২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক গেজেট সংশোধন ও প্রকাশের একটি চিত্র পাওয়া গেছে। এই সময়ে ১৭ হাজার ৭৪৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, সংশোধন করা হয়েছে ৯ হাজার ৭৫৯ জনের এবং ৪ হাজার ৩৪৪ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ হাজার ৯২০ জন মুক্তিযোদ্ধার বেসামরিক গেজেট নিয়মিতকরণ করেছে মন্ত্রণালয়। জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন জানান, ৫ আগস্টের পর আবেদনের সংখ্যা বাড়লেও কঠোরভাবে কাগজপত্র যাচাই করেই গেজেট সংশোধন বা স্বীকৃতির সুপারিশ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় তালিকায় থাকা অ-মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক
জানুয়ারি মাসে রেকর্ড ১৯১ জনের গেজেট সংশোধন ও প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সাবেক সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে এত বিপুল সংখ্যক স্বীকৃতি দেওয়ার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাঁর মতে, এই গেজেট সংশোধন এর কাজ নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। বর্তমানে বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬৭২ জন এবং একমাত্র বিদেশি বীরপ্রতীক ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ডের নাম সম্মানের সাথে স্মরণ করা হয়। এই বিষয়ের আরও আপডেট পেতে ভিজিট করুন আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংবাদ বিভাগ এবং নিয়মিত ভিডিও খবরের জন্য যুক্ত হন আমাদের ইউটিউব কমিউনিটি লিংকে।















