ভোলায় কৃষকের সার নদীপথে পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে

৬৪
ভোলায় কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার নদীপথে মিয়ানমারে পাচার
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • ভোলায় কৃষকদের জন্য বরাদ্দ ইউরিয়া ও টিএসপি সার নদীপথে মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক মাসে কোস্টগার্ড ও পুলিশের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

    পুলিশ ও কোস্টগার্ড সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আট মাসে পৃথক অভিযানে প্রায় ১৪১ মেট্রিক টন সারসহ ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের অভিযানে প্রায় ৫৫ মেট্রিক টন সারসহ সাতজন এবং পুলিশের দুটি অভিযানে প্রায় ৮৬ মেট্রিক টন সারসহ পাঁচজন আটক হয়েছেন।

    সর্বশেষ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তজুমুদ্দিন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা বাজারসংলগ্ন মেঘনা নদীতে অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। সন্দেহজনক একটি ট্রলারে তল্লাশি করে প্রায় ৮ মেট্রিক টন বা ১৬০ বস্তা ইউরিয়া সার এবং পাচারে ব্যবহৃত ট্রলারটি জব্দ করা হয়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    এর আগে ১২ আগস্ট চরফ্যাশন উপজেলায় গভীর রাতে ভোলায় সার পাচারকালে একটি ট্রাক ও মাছ ধরার ট্রলার থেকে ২৯৩ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে সার ট্রলারে তোলার কথা স্বীকার করেন।

    এ ছাড়া গত ৫ মার্চ ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ফেরিঘাটে চারটি ট্রাক থেকে ১ হাজার ৪২০ বস্তা বা প্রায় ৭১ মেট্রিক টন ইউরিয়া ও টিএসপি সার জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় একজন চালককে আটক করা হলেও অন্য তিনটি ট্রাকের চালক পালিয়ে যান।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ডিলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সার বেশি দামে কালোবাজারে বিক্রি করছেন। সেখান থেকেই একটি চক্র নদীপথে সার পাচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে কৃষকদের সার সংগ্রহে ভোগান্তি বাড়ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, ভোলার বিসিআইসির বাফার গুদাম থেকে ডিলারদের প্রতিনিধিরা সার সংগ্রহ করেন। অনেক ডিলারের সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিয়ম অনুযায়ী বিক্রয়কেন্দ্র না থাকায় কৃষকদের সরাসরি সার সংগ্রহে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

    গত এক বছরে ভোলায় সার পাচার বেড়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। আগে সড়কপথে পাচারের চেষ্টা করা হলেও ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এখন মাছ ধরার বড় নৌকা, ট্রলার ও বাল্কহেড ব্যবহার করে নদীপথে সার সরানোর অভিযোগ উঠেছে।

    বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাহাবুদ্দিন ফরাজী অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকের সার না পাওয়ার অন্যতম কারণ সিন্ডিকেট ও পাচারকারী চক্র। কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার কৃষকের হাতে পৌঁছানো এবং সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

    কোস্টগার্ড জানিয়েছে, নৌপথে চোরাচালান ও পাচার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খাইরুল ইসলাম মল্লিক জানিয়েছেন, বর্তমানে জেলায় সারের সংকট নেই। সার পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতি মাসে সার তোলা, বিক্রি ও মজুদের বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সার যাতে দেশের বাইরে পাচার হতে না পারে, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ভোলায় সার পাচার নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কৃষি ও জাতীয় খবরের সর্বশেষ আপডেট জানতে Green Online BD অনুসরণ করুন।

    আরও ভিডিও আপডেট ও আলোচনা পেতে Green Online BD YouTube Community-তে যুক্ত থাকুন।

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।