প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারি ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এই ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে উপকারভোগীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অধিকার, মর্যাদা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের প্রয়োজন ও অধিকার যথাযথভাবে বিবেচনা করা সরকার ও সমাজের দায়িত্ব। অতীতে যেসব ঘাটতি ছিল, সেগুলো পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আদালতে সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ তৈরির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে। হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষা জানা ব্যক্তিদের সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা, প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়গুলোও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে সঠিক তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান। গণপরিবহনে চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীদের জন্য পিংক বাসসেবা আরও উপযোগী করা এবং ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে প্রতিবন্ধীবান্ধব বাস চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।
নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশ ও চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব সুবিধা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব নিয়েও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রস্তাব প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিষয়টি সাংবিধানিক বিবেচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ, আইন এবং নারী ও শিশুবিষয়ক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে স্বাবলম্বী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
এ সময় প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ মো. মহসিন প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ক্যাপ উপহার আনেন। মঞ্চ থেকে নেমে এসে তারেক রহমান উপহারটি গ্রহণ করেন এবং বিদেশে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মহসিনের দলকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বক্তব্য রাখেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষা সংবাদ
সর্বশেষ খবর পেতে যুক্ত থাকুন: GreenOnline YouTube Community















