‘ভয়াবহ উত্তেজনা’: ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরায়েলের মৃত্যুদণ্ড আইন পাসের প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব

১০৫
Israel Knesset death penalty law Palestinians 2026, বেন-গভিরের উদযাপন ইসরায়েল পার্লামেন্ট, Protests against Israeli death penalty law, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড আইন ২০২৬, Rights groups denounce Israel legislation
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • আল জাজিরা স্টাফ: ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের জন্য অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার একটি আইন পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট ‘নেসেট’। মানবাধিকার সংস্থা এবং ফিলিস্তিনি নেতারা এই আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং চরম বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করেছেন। গত সোমবার (৩০ মার্চ, ২০২৬) পাস হওয়া এই আইনে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের জোরালো সমর্থনে ৬২-৪৮ ভোটে আইনটি পাস হয়। আইন পাসের পর বেন-গভিরকে পার্লামেন্ট কক্ষে শ্যাম্পেন খেয়ে উদযাপন করতে দেখা যায়।

    ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আইনকে একটি “ভয়াবহ উত্তেজনা” হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে, অধিকৃত ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। হামাস এই পদক্ষেপকে একটি “বিপজ্জনক নজির” বলে অভিহিত করেছে যা ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে। ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা বারঘুতি সতর্ক করেছেন যে, এই আইনটি মূলত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দি ও কর্মীদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস এই বৈষম্যমূলক আইনটি অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে “নিষ্ঠুরতা এবং বৈষম্যের প্রকাশ্য প্রদর্শনী” হিসেবে বর্ণনা করেছে। আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোও এই বিলটি প্রত্যাহারের জন্য ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কাউন্সিল অব ইউরোপের মহাসচিব অ্যালাইন বারসেট এই আইনকে মানবাধিকার মানদণ্ডের সাথে বেমানান বলে নিন্দা করেছেন।

    দুর্ঘটনার কারণসমূহ (উদ্বেগের কারণসমূহ):

    ১. এই আইনটি কেবল অধিকৃত পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলের ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে, যা চরম বৈষম্যমূলক।
    ২. আইনি আবরণে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
    ৩. অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বৃদ্ধির সময়েই এই আইন পাস হয়েছে।
    ৪. ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাকে নিষ্ঠুর এবং অমানবিক শাস্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
    ৫. ইসরায়েলি সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনিদের প্রায়ই অন্যায্য বিচারের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়।
    ৬. এই আইনটি ইসরায়েলি ব্যবস্থার ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদী পরিবর্তনের গভীরতাকে প্রতিফলিত করে।
    ৭. এটি বর্ণবৈষম্য এবং অ্যাপার্থাইড ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
    ৮. মৃত্যুদণ্ডের ওপর বিশ্বব্যাপী স্থগিতাদেশের জন্য জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলোকে ইসরায়েল সরকার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।

    দুর্ঘটনার প্রতিরোধে সুপারিশসমূহ (প্রতিরোধে সুপারিশসমূহ):

    ১. ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিল করতে হবে।
    ২. ফিলিস্তিনি বন্দিদের সুরক্ষায় জাতিসংঘ এবং রেড ক্রসকে জরুরি হস্তক্ষেপ করতে হবে।
    ৩. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করতে হবে।
    ৪. ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টকে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস’ এর আপিল গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
    ৫. ইসরায়েলকে অবশ্যই কাউন্সিল অব ইউরোপের কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।
    ৬. বিশ্বনেতাদের কেবল মৌখিক নিন্দা না জানিয়ে কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
    ৭. ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের চিকিৎসার তদারকি করতে আন্তর্জাতিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
    ৮. মানুষের জীবনের পরম মূল্য এবং মর্যাদাকে সম্মান জানিয়ে এই বিল প্রত্যাহার করতে হবে।
    ৯. ফিলিস্তিনিদের বেআইনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দায়মুক্তি বন্ধ করতে হবে।
    ১০. আইনের শাসনের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক শাস্তি প্রয়োগের মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
    ১১. ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য মিত্রদের পক্ষ থেকে আইনটি কার্যকর না করতে চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
    ১২. ফিলিস্তিনি ভূমির ওপর ইসরায়েলের অবৈধ সার্বভৌমত্ব দাবির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
    ১৩. আন্তর্জাতিক নীতি ও কনভেনশনগুলোর মর্যাদা রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে সোচ্চার হতে হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যে এই আইনের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীরা এখন আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন।


    বিস্তারিত পড়ুনঃ অথবা আমাদের ফেসবুকে অনুসরণ করুন

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।