জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের কৌশলগত খন্দাব ভারী পানি চুল্লি উৎপাদন কেন্দ্রটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। গত ২৭ মার্চ ওই স্থাপনায় ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এই হামলার ফলে চুল্লিটির অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সক্ষমতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
হামলার ভয়াবহতা ও স্থাপনার বর্তমান অবস্থা
জাতিসংঘের পরমাণু ওয়াচডগ আইএইএ-র মতে, খন্দাব ভারী পানি চুল্লি কেন্দ্রটি ইসরায়েলি হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এর কার্যক্রম পরিচালনার আর কোনো সুযোগ নেই। তবে সংস্থাটি এটিও পরিষ্কার করেছে যে, হামলার সময় ওই স্থাপনায় কোনো ঘোষিত পারমাণবিক পদার্থ (Nuclear Material) মজুদ ছিল না। তা সত্ত্বেও, একটি বিশেষায়িত পারমাণবিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত করা ইরানের দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে ধসিয়ে দেওয়ার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনায় সমন্বিত আক্রমণ
২৭ মার্চের ওই হামলায় শুধুমাত্র খন্দাব ভারী পানি চুল্লি নয়, বরং ইরানের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অবকাঠামো সাইটকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। ইসরায়েলি এই সমন্বিত আক্রমণ ইরানের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। খন্দাব স্থাপনাটি ইরানের ভারী পানি উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যা নির্দিষ্ট ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই কেন্দ্রটি অচল হয়ে যাওয়ার ফলে ইরানের কারিগরি অগ্রযাত্রা কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ ও পরমাণু নিরাপত্তা
খন্দাব ভারী পানি চুল্লি অচল হয়ে যাওয়ার তথ্যটি এমন এক সময়ে আসলো যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উত্তেজনায় কাঁপছে। আইএইএ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যুদ্ধকালীন সময়ে পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট সাইটগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি এই আঘাত ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের পথ তৈরি করতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলবে।
বিস্তারিত পড়ুনঃ অথবা আমাদের ফেসবুকে অনুসরণ করুন















