৭৩৯ জাল সনদধারীর কাছে সরকারের পাওনা ৫৩৪ কোটি টাকা

১৫১
Fake certificates recovery 534 crore BDT, ৭৩৯ জাল সনদধারী শনাক্ত ডিআইএ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২১৮৬ একর জমি দখল, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর প্রতিবেদন ২০২৬, Fake certificate news Bangladesh.
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • চলতি ও বিগত ৫ অর্থবছরে জাল সনদধারীদের থেকে পাওনা © গ্রিন অনলাইন

    মোহাম্মদ আক্তার হোসেন কুমিল্লার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তার জমা দেওয়া কম্পিউটার সনদটি জাল প্রমাণিত হয়েছে। ডিআইএ তাকে ৩০.৮০ লাখ টাকা ফেরতের সুপারিশ করেছে। সিলেটের শিক্ষক নাজিম উদ্দিনের নিবন্ধন সনদও জাল ছিল। তাকে ২২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরাতে বলা হয়েছে।

    সারা দেশে মোট ৭৩৯ জন জাল সনদধারী শনাক্ত হয়েছে। ডিআইএ ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছে। এসব শিক্ষকের কাছে সরকারের পাওনা ৫৩৪ কোটি টাকা। একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২১৮৬ একর জমি বেহাত হয়েছে। গত আট মাসে ৭৩৬টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে।

    ডিআইএ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মোট ৮,০১৮টি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮৬টি জাল সনদ শনাক্ত করা হয়। তখন আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ ছিল ৪৩.৫৩ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাল সনদের সংখ্যা ১২৭টিতে দাঁড়িয়েছিল। তখন ৯৬.৪৯ কোটি টাকা আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছিল।

    ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২,৩৫৮টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। তখন ১০৫টি জাল সনদ শনাক্ত করেছে ডিআইএ সংস্থাটি। ওই বছর ৮৩.৮৯ কোটি টাকা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ২৭৪টি জাল সনদ শনাক্ত হয়েছে। তখন ১৯৫.৬৮ কোটি টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    চলতি অর্থবছরের আট মাসে আরও ১৪৭টি জাল সনদ মিলেছে। এখন মোট জাল সনদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৯-এ। সব মিলিয়ে মোট পাওনা টাকার পরিমাণ ৫৩৪ কোটি। চার বছরে ৪১৯ কোটি টাকার সাথে ১১৫ কোটি যোগ হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব অনিয়ম খতিয়ে দেখছে।

    পাঁচ বছরে বেহাত ২১৮৬ একর জমি

    গত জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৯৯ একর জমি হারিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৫৭ একর জমি প্রভাবশালীরা দখল করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দখল হওয়া জমির পরিমাণ ছিল ২৩২ একর। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৬৫ একর জমি বেদখল হয়ে যায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৩৮ একর জমি হারিয়ে গেছে।

    যেসব স্কুলের জায়গা বেদখল হয়েছে

    রাজধানীর শের-ই-বাংলা স্কুলের ১.৪৬ একর জমি দখল হয়েছে। স্কুলের তিন দিকে এখন বহুতল আবাসিক ভবন রয়েছে। নয়াটোলা মাদ্রাসার প্রায় ২১ শতাংশ জমি বর্তমানে নেই। যাত্রাবাড়ী মান্নান হাইস্কুলের অর্ধেক জমিও এখন উধাও। ২৬.৪০ শতাংশ জমি কিনতে তহবিল থেকে টাকা খরচ হয়েছিল।

    গোপালগঞ্জের হাজী এনসি ইনস্টিটিউটের জমিও বর্তমানে কমে গেছে। ২৭ বছরে বিদ্যালয়ের জমি কমে ৩.৪০ একর হয়েছে। গেন্ডারিয়ার ফজলুল হক মহিলা কলেজের জমিও বেহাত হয়েছে। কলেজটির জমি ২.৩২ একর থেকে ১.০৫ একরে নেমেছে। এক একরের বেশি জমি এখন আর নেই।

    ডিআইএ’র বক্তব্য ও সুপারিশ

    ডিআইএ পরিচালক প্রফেসর এম. এম সহিদুল ইসলাম কথা বলেছেন। তিনি জনবল সংকটের মধ্যেও পরিদর্শন চালিয়ে যাচ্ছেন। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জাল সনদ ও জমি দখল গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে কঠোর সুপারিশ পাঠিয়েছেন। অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।