হর্মুজ প্রণালী সংকট: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হর্মুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এই আলোচনায় চীনের অংশগ্রহণ এবং তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।
হর্মুজ প্রণালী ও বেইজিংয়ের ‘স্বার্থের সংঘাত’
গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনায় ইরানকে রাজি করাতে চীনা কমিউনিস্ট শাসন (CCP) বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তবে হর্মুজ প্রণালী খোলার ঘোষণা দিলেও বাস্তবতা ভিন্ন। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (ADNOC) প্রধান নির্বাহী সুলতান আল জাবের গত ৯ এপ্রিল এক বিবৃতিতে জানান, হর্মুজ প্রণালী এখনও উন্মুক্ত নয়; বরং সেখানে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং শর্তসাপেক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, এই হর্মুজ প্রণালী সংকট সমাধানে চীনের ভূমিকা মূলত তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার একটি প্রচেষ্টা।
চীনের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ এই হর্মুজ প্রণালী দিয়ে আসে। এছাড়া ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে রপ্তানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কেনে চীন। মার্কিন ভিত্তিক বিশ্লেষক ট্যাং জিংয়ুয়ান মনে করেন, হর্মুজ প্রণালীর দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ চীনের অর্থনীতির জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই বেইজিং একদিকে যেমন ইরান সরকারকে টিকিয়ে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যস্ত রাখতে চায়, অন্যদিকে তাদের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হর্মুজ প্রণালী সংকট নিরসনে চাপ দিচ্ছে। তবে ইরান যদি এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোর কাছে ‘ফি’ বা কর দাবি করে, তবে চীন এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়বে। এতে করে বেইজিংকে অনেকটা ইরানের কাছে ‘সুরক্ষা কর’ দেওয়ার মতো অধস্তন অবস্থানে যেতে হবে, যা চীনের জন্য কূটনৈতিকভাবে অপমানজনক।
অনিশ্চয়তার মুখে বিশ্ব নৌপথের ভবিষ্যৎ
সামরিক প্রযুক্তি বিশ্লেষক মার্ক কাও মনে করেন, ইরান মূলত চীনকে এই দ্বন্দ্বে সরাসরি টেনে আনার চেষ্টা করছে। বেইজিং দাবি করেছে যে, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২৬টি দেশে ফোন কল করেছেন। তবে বিশ্লেষক সু তজু-উন মনে করেন, চীনের এই দ্বিমুখী নীতি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ যেমন সৌদি আরব বা আরব আমিরাতের সাথে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। বর্তমানে হর্মুজ প্রণালী সংকট এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে তিনটি সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে: প্রথমত, যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়া; দ্বিতীয়ত, ইরান কর্তৃক ফি আদায়; এবং তৃতীয়ত, ইরান কেবলমাত্র নির্দিষ্ট কিছু দেশকে চলাচলের অনুমতি দেবে। শেষোক্ত পরিস্থিতিটি আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর ইরানের একক আধিপত্যের স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চরম উদ্বেগের কারণ।
হর্মুজ প্রণালী সংকট এবং চীন-মার্কিন কূটনৈতিক লড়াইয়ের সবশেষ খবরের জন্য ভিজিট করুন আমাদের আন্তর্জাতিক ডেস্ক এবং নিয়মিত ভিডিও খবরের জন্য যুক্ত হন আমাদের ইউটিউব কমিউনিটি লিংকে।















