জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না আসায় রাজপথে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে বিরোধী জোট। আগামী শনিবার বিকেলে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। এটি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ৪৪ দিনের মাথায় প্রথম বড় আন্দোলন।
বিরোধী দলের অভিযোগ, সরকার জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। বিশেষ করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া থমকে আছে। জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ ও বাক্য ধারণ করার কথা বললেও এর আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সরকারি দল। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী জোটের কর্মসূচি
রাজধানীর গুলশানে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে শনিবারের কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতা হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সরকার সমাধান না করলে তারা কঠোর হতে বাধ্য হবে। বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি জনমত গঠনে লিফলেট বিতরণ ও সেমিনার করবে বিরোধী দল। তারা মনে করেন, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার সুযোগ সরকারের নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সমঝোতার মাধ্যমে এই সংকট এড়ানোর সুযোগ ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ মনে করেন, রাজপথের আন্দোলন বড় সংঘাত তৈরি করতে পারে। সংসদের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি এখন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। ছোট ভুল থেকেও বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সংবিধান সংস্কার ও গণভোট নিয়ে সংসদে বিতর্ক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে দাবি করেছেন, গণভোটের আইনি ভিত্তি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণকে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। অন্যদিকে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জনরায়কে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী ৫ এপ্রিল এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন। তবে বিরোধী দল ইতোমধ্যে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে, তা নিয়ে এখন সারা দেশে আলোচনা তুঙ্গে। রাজপথের এই কর্মসূচি রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।












