সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ পাস: নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম

১০৩
Anti-Terrorism Act 2026 সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদ Awami League Banned Bangladesh Parliament
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধিত বিল। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এই অধ্যাদেশটিকে কঠোর শাস্তির বিধানসহ আইনে রূপান্তর করা হলো। বিস্তারিত জানুন।

    সংসদে আইন পাস: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন আইনি বাধা

    বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ (সংশোধিত) বিল আকারে পাস হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির সুপারিশে এটি পাস হয়। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস হওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। এই নতুন আইনের ফলে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর মিছিল, সভা-সমাবেশ, কার্যালয় খোলা রাখা এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকল। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিলটি পাসের সময় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানানো হয়।

    সদ্য পাস হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ বা বিলে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে সাজার ক্ষেত্রে। অন্তর্বর্তী সরকারের মূল অধ্যাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী সাজা হবে, তার স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে সংসদীয় কমিটি শাস্তির বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করে। নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা সত্তা যদি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৪ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এর ফলে আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে পোস্টার-ব্যানার প্রচার, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া বা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালানো এখন দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

    গত বছরের মে মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধন করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। সেই সময় ছাত্রলীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করা হলেও আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ না করে তাদের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার সেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ কে আইনে পরিণত করে শাস্তির বিধান যুক্ত করায় দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা এখন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবির প্রেক্ষিতে এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

    সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ এবং নতুন এই আইনের ফলে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে আওয়ামী লীগের অবস্থান এখন সম্পূর্ণ আইনি নিষেধাজ্ঞার কবলে। এই আইনের ফলে দলটির কার্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে এবং গণমাধ্যমেও দলটির কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা প্রকাশ করা যাবে না। এই সংক্রান্ত সবশেষ খবরের জন্য ভিজিট করুন আমাদের জাতীয় সংবাদ বিভাগ এবং নিয়মিত ভিডিও খবরের জন্য যুক্ত হন আমাদের ইউটিউব কমিউনিটি লিংকে।

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।