🌙 রমজানের শেষ দশকের ইবাদত
✍️ রমজান মাস মূলত আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। তবে এই মাসের শেষ দশক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। কারণ এই সময়েই লাইলাতুল কদরের মতো মহিমান্বিত রাত নিহিত থাকার সম্ভাবনা বেশি, যে রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
হাদিসে এসেছে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) অধিক ইবাদতে মনোনিবেশ করতেন, রাত জেগে থাকতেন এবং পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০২৪)
## শেষ দশকে ইবাদতের গুরুত্ব
রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক আমলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অন্তরের গভীর ইবাদতের মধ্যেই এর প্রকৃত রূপ ফুটে ওঠে। বিনয়, ভাঙা হৃদয় এবং অশ্রুসিক্ত দোয়া বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্যের দিকে টেনে নেয়।
এই সময় একজন মুমিনের উচিত দুনিয়ার মোহ ও কামনা থেকে নিজেকে সরিয়ে আল্লাহর দিকে একান্তভাবে ফিরে যাওয়া।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর তুমি তোমার রবের নাম স্মরণ কর এবং একাগ্রচিত্তে তাঁর প্রতি নিমগ্ন হও।” (সুরা মুজ্জাম্মিল : ৮)
এ আয়াতে ব্যবহৃত আরবি শব্দ “তাবাত্তুল” অর্থ হলো দুনিয়ার অস্থায়ী সুখ থেকে হৃদয়কে সরিয়ে চিরস্থায়ী রবের দিকে ফিরে যাওয়া।
আল্লাহর রহমত ছাড়া বান্দা সম্পূর্ণ অসহায়। যখন বান্দা নিজের দুর্বলতা উপলব্ধি করে আল্লাহর কাছে বিনয় ও অনুনয়ের মাধ্যমে দোয়া করে, তখন সে আল্লাহর বিশেষ রহমতের প্রত্যাশা করতে পারে।
পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে, “আর তুমি নিজ মনে তোমার রবকে স্মরণ কর সকাল-সন্ধ্যায় অনুনয়-বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চ স্বরে; আর গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।” (সুরা আরাফ : ২০৫)
মুমিনের দায়িত্ব হলো ভুল হলে দ্রুত তওবা করে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা তোমাদের রবের দিকে ফিরে যাও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ কর।” (সুরা যুমার : ৫৪)
রমজানের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদতেও মনোনিবেশ করা জরুরি। বিশেষ করে রাতের শেষ অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করলে তা মুমিনের মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “যে ব্যক্তি রাতের বিভিন্ন প্রহরে সেজদা ও দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার রবের অনুগ্রহ কামনা করে—সে কি সমান সেই ব্যক্তির সাথে যে জানে না?” (সুরা যুমার : ৯)
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই মহিমান্বিত দিনগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।















