বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল স্কুলশিক্ষিকার

২০
খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাহমিনা আক্তার তন্নী (৩০) নামের এক স্কুলশিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের পাঁচবাগ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    নিহত তাহমিনা আক্তার তন্নী পাঁচবাগ গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহেরের জ্যেষ্ঠ কন্যা। তিনি স্থানীয় উজানভাটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের একজন শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয় ও দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে তিনি ঘরের স্বাভাবিক কাজকর্ম করছিলেন। একপর্যায়ে টেবিলের ওপর রাখা একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান চালু করতে গেলে হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

    বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

    পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    তন্নীর আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। অবিবাহিত এই শিক্ষিকার অকাল প্রয়াণে স্বজনরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশীরাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন।

    স্থানীয় স্কুলশিক্ষক সারোয়ার জাহান বাহার বলেন, তাহমিনা আক্তার তন্নী ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, মেধাবী ও দায়িত্বশীল একজন শিক্ষক। পরিবারের বড় মেয়ের এমন অকাল মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্যই অপূরণীয় ক্ষতি।

    ঘটনার খবর পেয়ে পাগলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এদিকে এ মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো বা ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    তাহমিনা আক্তার তন্নীর মৃত্যুতে শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেছেন।

    খবরটি ইংরেজিতে পড়ুন:
  • SdWjYjAAZtvRPgHJX4Xio+DSrkAAAAASUVORK5CYII=English
  • মন্তব্য করুন

    অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!!
    অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন।